মেরুদণ্ডের ব্যথার মৃত্যুঝুঁকি

স্বাস্থ্য

পিঠের বা মেরুদণ্ডের ব্যথায় আক্রান্ত হলে তাকে হেলাফেলা করেন অনেকেই। গবেষকরা জানিয়েছেন, মেরুদণ্ডের ব্যথাকে কোনো অবস্থাতেই হেলাফেলা করা উচিত নয়।

আপনার যদি মেরুদণ্ডের, বিশেষত মেরুদণ্ডের নিচের দিকে ব্যথা থাকে তাহলে দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিন। কারণ মেরুদণ্ডের ব্যথার কারণে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে ১৩ শতাংশ। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

বিশ্বের প্রায় ৭০০ মিলিয়ন মানুষের মেরুদণ্ডের ব্যথায় ভোগে। গবেষকরা জানিয়েছেন মেরুদণ্ডের ব্যথায় ভোগা এ ধরনের ব্যক্তিদের অনেকেই সারা বিশ্বেই এ ব্যথার কারণে অক্ষম হয়ে পড়েন। এছাড়া তাদের অন্য সাধারণ মানুষের তুলনায় অকালে মৃত্যুর সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

গবেষণাটি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা। আর গবেষণাপত্রটির প্রধান লেখক ইউনিভার্সিটি অব সিডনির গবেষক ম্যাথিও ফার্নান্দেজ বলেন, ‘পিঠের ব্যথাকে মৃত্যুর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে ধরা হয়। এটি মানুষের জীবনের ব্যাপ্তির ওপরেও প্রভাব ফেলে।’

ইউনিভার্সিটি অব সিডনির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর পাউলো ফেরেইরা বলেন, ‘এটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার কারণ, বহু মানুষ মনে করেন ব্যাক পেইন জীবনের জন্য হুমকি নয়।’

তবে গবেষকরা এখানে পরিসংখ্যানের ব্যবহার করে মৃত্যুর সম্ভাবনা তুলে ধরলেও ঠিক কী কী কারণে এ মৃত্যুহার বাড়ছে সে সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানাননি। এটি হতে পারে দুর্বল স্বাস্থ্যের কারণে কিংবা দেহের কোনো একটি অংশের সঠিকভাবে কাজ না করার কারণে। এটি বয়স্কদের মৃত্যুহার বৃদ্ধির ঝুঁকিও অনেকাংশে বাড়ায়।

তাহলে পিঠের ব্যথায় আক্রান্ত হলে কী করা উচিত? এ প্রসঙ্গে গবেষকরা বলছেন নানা কারণে পিঠের ব্যথা হতে পারে। কারণ যাই হোক না কেন, তা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এছাড়া সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমেও ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব পেইনে।

নারীদের সুস্থ থাকার জন্য কয়েক ধরনের ভিটামিন গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি বিষয়। কারণ এসব ভিটামিন সঠিকভাবে গ্রহণ না করলে কিংবা কোনো ঘাটতি থাকলে তাতে নানা ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

জেনে নিন তেমন কিছু জরুরি ভিটামিনের কথা-

ভিটামিন এ:
ভিটামিন এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব বয়সী নারীদের জন্য ভিটামিন এ প্রয়োজনীয়। এটি হাড়, দাঁত মজবুত করে। এর সাথে টিস্যু, ত্বক এবং পেশী মজবুত করে থাকে। নিয়মিত গ্রহণে ভিটামিন এ দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতার ঝুঁকি কমায়, দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়, বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর করে। টমেটো, তরমুজ, পেয়ারা, ব্রকলি, পেঁপে, দুধ, কলিজা ইত্যাদি খাবারে প্রচুর ভিটামিন এ রয়েছে।

ভিটামিন ডি:
প্রতিদিন কয়েক মিনিট সূর্যের আলোর নিচে থেকে ভিটামিন ডি গ্রহণ করা যায়। পদ্ধতিটি সহজ হলেও অনেকেই তা করেন না। ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং মিনারেল সমৃদ্ধ ভিটামিন ডি সামুদ্রিক মাছ, ফ্যাটি ফিশ, ডিম, দুধ ইত্যাদি খাবারে রয়েছে। এটি পিএমএসের লক্ষণ কমিয়ে দেয়। নিয়মিত সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকা হাড়ের সমস্যা অস্টিওপরোসিস রোধ করে।

ভিটামিন বি:
ভিটামিন বি মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দেয়। বি৬ লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি করে। ভিটামিন বি৯ ফলিক এসিড নামে পরিচিত যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডিপ্রেশন, ক্যান্সার ও মেমোরি লস প্রতিরোধ করে। ভিটামিন বি৬ ডিপ্রেশন, হৃদরোগ এবং স্মৃতি হারানোর সমস্যা কমতে সাহায্য করে। মাছ, মাংস, বিনস, সবজি, ওটমিল ফল ইত্যাদি ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার। প্রতিদিনকার খাদ্যতালিকায় ভিটামিন বি১২, ভিটামিন বি৯ ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি৭ ইত্যাদি খাবার রাখা প্রয়োজন।

ভিটামিন ই:
বয়সের তুলনায় বুড়িয়ে যাওয়া রোধ, হার্ট সুস্থ রাখা, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ত্বক এবং চুল সুস্থ রাখতে ভিটামিন ই অপরিহার্য। বাদাম, কর্ লিভার অয়েল, পালং শাক, সানফ্লাওয়ার সিডস ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ই রয়েছে।

ভিটামিন সি:
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন সি বেশ উপকারী। এটি দেহের অভ্যন্তরীণ টিস্যুর উন্নতি করে, বিভিন্ন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। কমলা, আঙ্গুর, জাম্বুরা, স্ট্রবেরি, ব্রকলি ইত্যাদি খাবারে ভিটামিন সি রয়েছে।

মন্তব্য

মন্তব্য