রাইড শেয়ার এবং আমাদের মানসিকতা

প্রযুক্তি

১ম বিশ্বের কোনও দেশে আপনি পড়াশুনা করতে যান, আপনার টিউশন ফি ছাড়াও হাত খরচ চালাতে হলে আপনাকে অবশ্যই কোনও না কোনও জব করতে হবে। সেসব দেশের সেকেন্ডারি স্কুলের বাচ্চারা পর্যন্ত জব করে তাদের হাত খরচ চালায়। তারা যে তথাকথিত অফিস জব করে তা কিন্ত না। অনেকেই রেস্টুরেন্টে ওয়েটার কিংবা টেক্সি ড্রাইভার হিসেবে জব করে তাদের হাত খরচ, অনেক ক্ষেত্রে টিউশন ফিও চালায়।

অনেক জায়গাতে ১৮ বছরের পর বাবা মা খরচ চালানো বন্ধ করে দেয়। তারাও ১৮ এর পর বাবা মা থেকে খরচ নেয়াটা অসম্মানজনক হিসেবে দেখে।

এবার আমাদের দেশের দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করে দেখুন। এদেশের স্কুল-কলেজের স্টুডেন্ট দেরকে অবুঝ শিশু বলে ধারণা করা হয়। ইন ফ্যাক্ট বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে/মেয়েটি যখন টিউশনি কিংবা পার্ট টাইম জব করে তাদের খরচ চালাতে চায়, সমাজ থেকে তাদের দয়ার দৃষ্টিতে দেখা হয়। বলা হয়, “আহারে! ওদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা বোধহয় ভাল না। না হলে পড়াশুনা অবস্থায় কেন টাকা পয়সা ইনকামে নামলো!” এমনকি তাদের বাবা মাও ভীষণ অসন্তোষ প্রকাশ করে।

এমতাবস্থায় ঢাকা শহরে “পাঠাও” অ্যাপটি শহরের যুবকদের জন্য আশির্বাদ হয়ে উঠতে পারত। কিন্ত এই সমাজের মানুষের নিচু ধারণায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে অনেকেই এসরে আসতে চাইছে। রাইড শেয়ারিংয়ের মতো একটা স্মার্ট, ইজি এবং যুগোপযোগী ইনকাম সোর্স বাংলাদেশের মত একটা দেশে আছে সেটা নিয়ে গর্ব করা যায়। কিন্ত এ সমাজের মানুষ সেটাকে অবজ্ঞার চোখে দেখে।

গত চারদিন আগের একটা ঘটনা। গুলশান ১ এ সিগনালে দাঁড়িয়ে আছি রাইড শেষ করে। তখন একজন সার্জেন্ট জিজ্ঞেস করলেন, “কি করা হয়?” বললাম, “পড়াশুনা করি”
-কিসে পড়ো?
-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিবিএ করছি
-কোন সাবজেক্ট?
-ফিন্যান্স
তিনি চোখ বড় বড় করে তাকালেন। আর বললেন
-বাহ! অনেক ভাল সাবজেক্ট তো। (মৃদু মাথা নাড়লেন আফসোসের ভঙ্গিতে)
– ফ্যামিলিতে টাকা পয়সার অনেক সমস্যা না?
আমি আকাশ থেকে পড়লাম। হাসলাম আর বললাম,
– জ্বী না। আমার বয়স ২২ পার হয়ে গেছে। বাবার থেকে টাকা চাইতে লজ্জা লাগে, আত্মসম্মানে লাগে। নিজের খরচ নিজেই চালাই।

সার্জেন্ট সাহেব অনেক ক্ষন অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন। যেন ভুতের সাথে কথা বলছিলেন।

যে দেশের যুবসমাজ শিক্ষার্জন করে স্বাবলম্বী হতে হতে ৩৩ বছর পার করে দেয়, সে দেশ শক্তিশালী ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নেতৃত্ব তৈরী করবে কিভাবে? উন্নতি করে বিশ্বে টেক্কা দিয়ে টিকেই বা থাকবে কিভাবে?

লেখা: মাহিন আহমেদ

মন্তব্য

মন্তব্য